যশোরে সাজাপ্রাপ্ত নারীসহ মুক্তি পেল ১৭ কয়েদি - যশোর নিউজ - Jessore News

Breaking

Post Top Ad


Post Top Ad

Responsive Ads Here

Tuesday, August 18, 2020

যশোরে সাজাপ্রাপ্ত নারীসহ মুক্তি পেল ১৭ কয়েদি

 


যাবজ্জীবন সাজাপ্রাপ্ত ১৭ কয়েদির মুক্তি দিয়েছেন যশোর কারাকর্তৃপক্ষ। মুক্তিপ্রাপ্তরা সকলেই হত্যা মামলার আসামি ও প্রত্যেকে ২০ বছর কারাবাস শেষ করেছে। গত ১৫ আগষ্ট দুপুরে তাদের কাছথেকে সাজার নির্দিষ্ট জরিমানা আদায় করে মুক্তি দেয়া হয়। একই সাথে ব্লাস্ট যশোরের সহযোগিতায় প্রত্যেককে ২৫ কেজি চাল. ৫ কেজি ডাল, ৩ লিটার সয়াবিন তেল, দুই কেজি চিনি ও যাতায়াত ভাড়া প্রদান করা হয়।

কেন্দ্রীয় কারাগার সূত্র জানায়, মুক্তিপ্রাপ্ত বন্দিরা যশোর কেন্দ্রীয় কারাগারে আটক থাকা কালীন সময় তাদের বিরুদ্ধে কোনো অভিযোগ কেউ দেয়নি। তারা নম্র ও ভদ্রতার সাথে কারাভোগ করেছেন। একই সাথে যশোর কেন্দ্রীয় কারাগারের অভ্যন্তরে বিভিন্ন উন্নয়ন মুলক কর্মকান্ডে অংশ নিয়েছেন। কারা বিধি প্রথম খন্ডের ৫৬৯ ধারা অনুযায়ী তাদের মুক্তির জন্য সংশ্লিষ্ট মন্ত্রাণালয়ে সুপারিশ করা হয়েছিল। পরে অধিদপ্তর থেকে ১৭ জনকে মুক্তির দেয়ার নির্দেশ আসে।

রোববার তারা মুক্তি পান। মুক্তিপ্রাপ্তরা হলেন ঝিনাইদহ জেলার জগন্নাথপুর গ্রামের ইউসুফ আলীর ছেলে আব্দুল হান্নান, বাগেরহাট জেলার মংলা মাছ বাজার এলাকার মোতালেবের ছেলে শহিদ হাওলাদার চুয়াডাঙ্গা জেলার সাতগারী গ্রামের মৃত মোসলেম উদ্দিনের ছেলে মোহাম্মদ ইসলাম চুয়াডাঙ্গা জেলার আলমডাঙ্গা উপজেলার মুসাইনগরের রোকন মন্ডলের ছেলে জামাল উদ্দিন যশোর সদর উপজেলার মুড়লি মোড় এলাকার আব্দুল আজিজের ছেলে রফিকুল ইসলাম, খুলনা খালিশপুর এলাকার হাবিবুর রহমানের ছেলে শাহ আলম, বাগেরহাট জেলার কচুয়া গ্রামের শ্রীনাথ দাসের ছেলে সুধীর কুমার দাস খুলনা দৌলতপুর থানার সাহাপাড়া গ্রামের কিরামত আলীর ছেলে জনি হোসেন নুরুন্নবী, বাগেরহাট জেলার মোল্লাপাড়া উপজেলার ভোজগাতী গ্রামের শাহাদত মোল্যার ছেলে দাউদ মোল্যা , চুয়াডাঙ্গা উপজেলার দামুরহুদা চারুলিয়া গ্রামের রজক খাঁর ছেলে জাহিদুল ইসলাম, সাতক্ষীরা জেলার দেবহাটা এলাকার সুরাত আলীর ছেলে পল্টু গাজী,বরিশাল জেলার বাকেরগঞ্জ এলাকার কাজল সিকদারের ছেলে বাবুল সিকদার,, সাতক্ষীরা জেলার শ্যামনগর উপজেলার পরানপুর গ্রামের আহাদ আলীর মেয়ে মনোয়ারা বেগম, ঝিনেইদহ জেলার দৌগাছি গ্রামের আব্বাস আলীর ছেলে আকিনুল ইসলাম, খুলনা টুটপাড়া এলাকার রুস্তম আলীর ছেলে আব্দুস সবুর, বাগেরহাট জেলার মোল্লারহাট উপজেলার বাহিরদিয়া গ্রামের ইনছান উদ্দিনের ছেলে আবুল কালাম, ও কুষ্টিয়া জেলার খাজা নগর এলাকার মুতি মোল্লার ছেলে আব্দুল মালেক।

মুক্তি পেয়ে বন্দি জনি হোসেন জানান, কারাগারে আটক থেকে স্বপ্ন দেখতাম কবে স্বাভাবিক জীবন ফিরে পাবো। আদোও পাবো কিনা সেই ভাবনা নিয়ে জীবন কাটিয়েছি। তবে এভাবে যে মুক্তি মিলবে তা কল্পনা করতে পারেনি। এমনকি আমাদের খাবারও দেয়া হয়েছে। তিনি কারাকর্তৃ পক্ষ ও ব্লাস্ট যশোরকে ধন্যবাদ জানান।

এ বিষয়ে যশোর কেন্দ্রীয় কারাগারের সিনিয়র জেলসুপার সুব্রত কুমার বালা বলেন, যশোর কেন্দ্রীয় কারাগার থেকে ২৭ বন্দির জন্য সুপারিশ করা হয়েছিল। তার প্রেক্ষিতে ১৭ জনের মুক্তির নির্দেশ আসে। তিনি আরো বলেন, মুক্তির সাথে সাথে জামিনে বের হয়ে কিছুদিন চলার জন্য প্রত্যেককে খাদ্যদ্রব্য হাতে তুলে দেয়া হয়। তাদের একার্যক্রমে সহযোগিতা করেন ব্লাস্ট যশোর।

মুক্তি প্রদানের সময় এসময় আরো ্উপস্থিত ছিলেন যশোর কেন্দ্রীয় কারাগারের জেলার তুহিন কান্তি খান, ব্লাস্ট যশোরের সভাপতি ও যশোর জেলা আইনজীবী সমিতির সভাপতি অ্যাড. এম ইদ্রিস আলী, যশোর ইউনিট চীফ অ্যাড.মোস্তফা হুমায়ন কবীর, প্রজেক্ট ম্যানেজার জান্নাতুল ফেরদৌস সুচি প্রমুখ।

উল্লেখ্য, সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, এবার সারাদেশ যাবজ্জীবন সাজাপ্রাপ্ত ৩২৭ জন কয়েদি মুক্তি পাচ্ছেন। খুুলনা বিভাগের ডিআইজি প্রিজন্স-এর দপ্তর থেকে জানা যায়, খুলনা বিভাগের ১০টির মধ্যে ৭টি কারাগার থেকে মুক্তির তালিকাভুক্ত হয়েছেন ৩২ জন যাবজ্জীবন সাজাপ্রাপ্ত কয়েদি। এরমধ্যে যশোর কেন্দ্রীয় কারাগার থেকে ১৭ জন, খুলনা জেলা কারাগার থেকে একজন, কুষ্টিয়া জেলা কারাগার থেকে ৪ জন, সাতক্ষীরা জেলা কারাগার থেকে ২ জন, মাগুরা জেলা কারাগার থেকে ৫ জন এবং চুয়াডাঙ্গা জেলা কারাগার থেকে ৩ জন।

Post Top Ad

Responsive Ads Here