যশোরে স্ত্রীকে হত্যার অভিযোগ, স্বামী আটক - যশোর নিউজ - Jessore News

Breaking

Post Top Ad


Post Top Ad

Responsive Ads Here

Sunday, January 19, 2020

যশোরে স্ত্রীকে হত্যার অভিযোগ, স্বামী আটক

যশোরের মনিরামপুর উপজেলায় লিপিকা দাস (২৩) নামে এক গৃহবধূর ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। শনিবার (১৮ জানুয়ারি) রাত ১২টার দিকে উপজেলার মাঝিয়ালী গ্রামে স্বামী বিজয় দাসের বাড়ি থেকে মরদেহটি উদ্ধার করে। এ ঘটনায় পুলিশ বিজয় দাসকে আটক করেছে। 

নিহত লিপিকা দাস (২৩) জেলার কেশবপুর উপজেলার খতিয়াখালি গ্রামের পাগল দাসের মেয়ে। ৬ বছর আগে বিজয় দাসের সঙ্গে লিপিকা দাসের বিয়ে হয়। লিপিকার স্বামী বিজয় দাস মনিরামপুর মাঝিয়ালী গ্রামের ধীরেন দাসের ছেলে। তিনি জুতা সেলাই করে সংসার চালান। ওই দম্পতির প্রীতি (৪) ও প্রিতম (২) নামে দুটি সন্তান রয়েছে।

লিপিকার স্বজনদের অভিযোগ, যৌতুক ও পরকীয়ার জেরে বিজয় দাস স্ত্রীকে পিটিয়ে হত্যার পর লাশ ঝুলিয়ে আত্মহত্যার নাটক সাজায়। 

লিপিকার ভাই সাধন দাস জানান, বিয়ের পর থেকে স্ত্রীকে ঘরে নিতে চাইতো না বিজয়। টাকার জন্য বিভিন্ন সময়ে বিজয় লিপিকাকে মারধর করতো। কয়েকদিন আগে বিজয় জমি কিনবে বলে দুই লাখ টাকা দাবি করে। সেই টাকা দিতে না পারায় লিপিকাকে পিটিয়ে হত্যা করেছে।

তিনি আরও জানান, শনিবার সন্ধ্যার পরপরই লিপিকাকে হত্যা করে গলায় লুঙ্গি জড়িয়ে তার লাশ ঝুলিয়ে রাখে বিজয়। লিপিকার মরার খবর বিজয় আমাদের জানায়নি। লিপিকা আত্মহত্যা করেছে, এমন খবর প্রচার করে তাকে দাহ করার জন্য প্রস্তুতি নেয়। পরে বিজয়ের প্রতিবেশিদের কাছে খবর পেয়ে তারা দ্রুত বিজয়ের বাড়ি আসেন।

লিপিকার ভাবি (বৌদি) শোভা দাস জানান, বিজয় আগের স্ত্রী ও চার সন্তান থাকার বিষয়টি গোপন করে লিপিকাকে বিয়ে করে। বিয়ের পর থেকে এক বছরও ভালোভাবে সংসার করতে পারেনি লিপিকা। বিজয় ঢাকা ও চট্টগ্রামে জুতা সেলাইয়ের কাজ করতো। লিপিকাও তার সাথে থাকতো। চট্টগ্রামে এক নারীর সাথে বিজয়ের পরকীয়া আছে। এই কারণে লিপিকাকে পিটিয়ে ঘর থেকে বের করে দেয় বিজয়। পরে কেশবপুরে তাদের বাড়িতে আশ্রয় নেয় লিপিকা। এই নিয়ে তারা কেশবপুর থানায় অভিযোগ করেন। গত ২২ ডিসেম্বর থানায় মুচলেকা দিয়ে লিপিকাকে নিয়ে আসে বিজয়। এরপর শনিবার রাতে তাকে পিটিয়ে হত্যা করে।

মনিরামপুর থানার এসআই জহির রায়হান জানান,  প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে  লিপিকা গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করেছেন। লাশ উদ্ধার করে মর্গে পাঠানো হয়েছে। স্বজনদের অভিযোগের ভিত্তিতে বিজয়কে হেফাজতে নেওয়া হয়েছে।

মনিরামপুর থানার ইনসপেক্টর (তদন্ত) শিকদার মতিয়ার রহমান জানান, এই ঘটনায় লিপিকার স্বজনরা আত্মহত্যার প্ররোচণার অভিযোগে বিজয়ের বিরুদ্ধে মামলার প্রস্তুতি নিয়েছেন।

Post Top Ad

Responsive Ads Here