যশোরে নারী নির্যাতন বন্ধ হচ্ছে না, নভেম্বরেই আক্রান্ত ৪৭ জন - যশোর নিউজ - Jessore News

Breaking

Post Top Ad


Post Top Ad

Responsive Ads Here

Wednesday, December 4, 2019

যশোরে নারী নির্যাতন বন্ধ হচ্ছে না, নভেম্বরেই আক্রান্ত ৪৭ জন


যশোরে নারীর প্রতি সহিংসতা ও যৌন হয়রানি বন্ধ হচ্ছে না। প্রায় প্রতিদিনই কোনো কোনো এলাকায় হয়রানি ও নির্যাতনের ঘটনা ঘটছে। গেল নবেম্বর মাসেই শারীরিক, মানসিক ও যৌন নির্যাতনের শিকার ৪৭ জন নারী যশোর ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতাল থেকে চিকিৎসা ও পরীক্ষা করিয়েছে। মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের নারী নির্যাতন প্রতিরোধকল্পে মাল্টিসেক্টর প্রোগ্রাম’র ওয়ান স্টপ ক্রাইসিস (ওসিসি) সেন্টার থেকে বুধবার এ তথ্য মিলেছে।

তাদের পরিসংখ্যান মতে, ১৮ থেকে তদোর্ধ্ব নারীর উপর শারীরিক নির্যাতন হয়েছে ১২ জন, মানসিক নির্যাতনের শিকার হয়েছে ২২ জন এবং একজন যৌন নির্যাতনের শিকার হয়েছেন। অপরদিকে, শিশু থেকে ১৮ বছর বয়স পর্যন্ত কিশোরীদের মধ্যে ১ জন শারীরিক, ৮ জন মানসিক ও ৩ জন যৌন নির্যাতনের শিকার হয়ে হাসপাতাল থেকে চিকিৎসা ও ভিকটিমের শারীরিক পরীক্ষা করা হয়েছে। তবে নির্যাতিতদের নিরাপত্তা ও সামাজিক সম্মান রক্ষায় প্রতিবেদনে ঘটনার বিবরণ ও নাম উল্লেখ করা হয়নি।

এ ব্যাপারে যশোর জেনারেল হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. আবুল কালাম আজাদ লিটু জানান, প্রতিমাসে হাসপাতালে শারীরিক, মানসিক ও যৌন নির্যাতনে আক্রান্ত হয়ে শিশু, কিশোরী, যুবতী ও মহিলারা ভর্তি হচ্ছেন। এর মধ্যে যে শিশু ভিকটিম আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে পরীক্ষা করতে আসছে; তাকে হয় প্রলোভন দেখিয়ে বা প্রেমের প্রস্তাব দিয়ে যৌন নির্যাতন করেছে। তিনি আরও জানান, গত মাসে এক চিকিৎসকের মেয়ে নির্মাণ শ্রমিকের সাথে প্রেম করে পালিয়ে যায়। পরে পিতামাতা জানতে পারলে তাকে সেখান থেকে পুলিশের মাধ্যমে উদ্ধার করে শেল্টার হোমে রাখেন। এছাড়া অনেকে সংসারে অভাব অনটনের কারণে কিংবা যৌতুকের বলি হয়েও নির্যাতনের শিকার হয়ে হাসপাতাল থেকে সেবা নিয়েছে।

হাসপাতাল ওয়ান স্টপ ক্রাইসিস সেন্টারের (ওসিসি) আইন কর্মকর্তা এ্যাডভোকেট ইসমাঈল হোসেন জানান, মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের নারী নির্যাতন প্রতিরোধকল্পে মাল্টিসেক্টর প্রোগ্রামের আওতায় ‘ওয়ান স্টপ ক্রাইসিস’ শুধুমাত্র হাসপাতালে আগত নির্যাতিতদের পরিসংখ্যান সংগ্রহ, সেবা এবং প্রয়োজন হলে নির্যাতিতদের আইনি সহযোগিতা দিয়ে থাকে। তিনি আরও জানান, হাসপাতালে আগত নির্যাতিতদের ও ভিকটিমের তথ্যউপাত্ত বিশ্লেষণ করে প্রতিবেদন তৈরি করা হয়েছে। যা প্রতিমাসে তত্ত্বাবধায়ক বরাবর প্রেরণ করতে হয়। পরবর্তীতে তিনি মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয়ে প্রেরণ করেন। আইনি সেবার প্রয়োজন হলে তত্ত্বাবধায়কের অনুমতিক্রমে নির্যাতিতদের আইনি সহযোগিতা দেয়া হয়।

Post Top Ad

Responsive Ads Here