যশোরে সাজার চেয়ে আসামি খালাস বেশি - যশোর নিউজ - Jessore News

Breaking

Post Top Ad


Post Top Ad

Responsive Ads Here

Monday, December 9, 2019

যশোরে সাজার চেয়ে আসামি খালাস বেশি


যশোর অঞ্চলে দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) মামলাগুলোর অধিকাংশ কমপক্ষে ২০ বছরের পুরনো। সাক্ষী ও আসামির মৃত্যুর কারণে এগুলোর নিষ্পত্তি দেরি হচ্ছে। এক বছরের পরিসংখ্যানে দেখা গেছে, মামলায় সাজার চেয়ে বেশিরভাগ আসামি খালাস পেয়ে যাচ্ছে। এ বছর ৯ মামলায় আসামিরা খালাস পেয়েছে। অপরদিকে পাঁচ মামলায় আসামির সাজা হয়েছে। বর্তমানে দুদকের ১২৩টি মামলা বিচারাধীন।

এ ব্যাপারে দুদকের আইনজীবী সিরাজুল ইসলাম বলেন, সাক্ষী ও প্রমাণের অভাবে বেশিরভাগ পুরাতন মামলার আসামিরা খালাস পেয়ে যাচ্ছে। মামলাগুলোর অনেক সাক্ষী ও আসামির মৃত্যু হওয়ায় এমন ঘটনা ঘটছে। তিনি বলেন, তবে পুরাতন মামলাগুলো দ্রুত নিষ্পত্তির চেষ্টা চলছে। একই সঙ্গে নতুন মামলাগুলোও দ্রুত নিষ্পত্তির উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। তিনি বলেন, বিচার বিভাগ স্বাধীনভাবে কাজ করছে। কোনো রকম হস্তক্ষেপ করা হচ্ছে না। তিনি বলেন, দুর্নীতি দমন ব্যুরোর আমলে করা অনেক মামলা এখনও ঝুলে আছে। এমনকি ১৯৮২-৮৩ সালের মামলাও আছে।

সচেতন নাগরিক কমিটির (সনাক) যশোরের সভাপতি অধ্যাপক সুকুমার দাস বলেন, মামলা হলেও দুর্নীতি কমছে না। লোভের কারণেই দুর্নীতির ঘটনা বাড়ছে। তিনি বলেন, এর নেপথ্যে রাজনৈতিক পৃষ্ঠপোষকতা ও ক্ষমতার অপব্যবহার দায়ী। তিনি বলেন, এগুলো বন্ধ না হলে দুর্নীতি প্রতিরোধ করা যাবে না। দেশপ্রেমে উদ্বুদ্ধ হয়ে ও ব্যক্তিস্বার্থের ঊর্ধ্বে উঠে সবাইকে কাজ করতে হবে। এ জন্য সুস্থ ধারার রাজনীতির চর্চা করা প্রয়োজন।

যশোরের দুদক সমন্বিত জেলা কার্যালয়ের উপ-পরিচালক নাজমুচ্ছায়াদাত বলেন, পুরাতন মামলার জব্দ আলামত অনেক ক্ষেত্রে যথাযথভাবে সংরক্ষণ করা হয়নি। কোনো কোনো ক্ষেত্রে প্রধান সাক্ষীসহ সাক্ষীদের মৃত্যু হয়েছে। আদালতে সাক্ষী হাজির করতে ও আলামত উপস্থাপনে ব্যর্থ হওয়ায় দুর্নীতি প্রমাণ করা সম্ভব হচ্ছে না। এসব কারণে আসামিরা খালাস পেয়ে যাচ্ছে। ২০০৪ সালে দুর্নীতি দমন কমিশন হওয়ার পর দায়ের করা মামলার দ্রুত নিষ্পত্তি করা হচ্ছে। বেশিরভাগ মামলায় সাজাও হচ্ছে। তিনি বলেন, দুর্নীতি দমনের পাশাপাশি প্রতিরোধেও আমরা কাজ করছি। দুর্নীতির কুফল সম্পর্কে প্রাথমিক ও মাধ্যমিক স্তরের শিক্ষার্থীদের সচেতন করতে নানা কর্মসূচি হাতে নেয়া হয়েছে। এর মধ্যে এক হাজার ৭০০ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে সততা সংঘ গঠন করা হয়েছে। একই সঙ্গে ৩৫২টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে সততা স্টোর (দোকানদার ছাড়া বিক্রি) তৈরি করা হয়েছে। দুর্নীতিবিরোধী ক্যাম্পেইন শিক্ষার্থীদের মাঝে ব্যাপক সাড়া ফেলেছে। যশোর, ঝিনাইদহ, মাগুরা ও নড়াইল জেলা নিয়ে দুদক সমন্বিত জেলা কার্যালয় গঠিত। যশোর কার্যালয়ের ১২৩টি মামলা বিচারাধীন। চলতি বছর চার জেলায় ৭৮টি দুর্নীতির অভিযোগ অনুসন্ধান করা হয়েছে। দুর্নীতির প্রাথমিক অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় ২৮টি মামলা হয়েছে। ১৩টি মামলায় অভিযোগপত্র দাখিল করা হয়েছে। একই সঙ্গে আটটি মামলায় চূড়ান্ত প্রতিবেদন জমা দেয়া হয়েছে।

Post Top Ad

Responsive Ads Here