‘কৃষকের অ্যাপ’ নামে অ্যাপে ধান কেনার কথা জানেন না যশোরের কৃষক - যশোর নিউজ - Jessore News

Breaking

Post Top Ad


Post Top Ad

Responsive Ads Here

Wednesday, November 27, 2019

‘কৃষকের অ্যাপ’ নামে অ্যাপে ধান কেনার কথা জানেন না যশোরের কৃষক


দেশের ১৬টি উপজেলায় এবার অ্যাপের মাধ্যমে সরকারিভাবে কৃষকের কাছ থেকে ধান সংগ্রহ করা হবে। এসব উপজেলার একটি হলো যশোর সদর। তবে এ উপজেলার কৃষকরা এ ব্যবস্থা সম্পর্কে অবগত নন। তাদের অভিযোগ, এ সম্পর্কে সরকারি কর্মকর্তারাও তাদের কিছু বলেননি। আর কর্মকর্তাদের দাবি, বিষয়টি তারা নিজেরা জেনেছেন সপ্তাহ খানেক আগে।

জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রকের কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, কৃষক পর্যায়ে ধানের ন্যায্যমূল্য নিশ্চিতে এবার যশোর সদরসহ দেশের ১৬ জেলার ১৬ উপজেলায় ‘কৃষকের অ্যাপ’ নামের একটি অ্যাপের মাধ্যমে ধান সংগ্রহ করা হবে। এজন্য একজন কৃষককে মোবাইল ফোনে ‘কৃষকের অ্যাপ’ নামে অ্যাপটি ডাউনলোড করে জাতীয় পরিচয়পত্র নম্বর ও মোবাইল নম্বর দিয়ে নিবন্ধন করতে হবে। এরপর ধানের নাম, জমির পরিমাণ, কী পরিমাণ ধান বিক্রি করতে চান, তা জানিয়ে ঘরে বসেই সরকারের কাছে ধান বিক্রির আবেদন করতে পারবেন তিনি। নিবন্ধন, বিক্রির আবেদন, বরাদ্দের আদেশ ও মূল্য পরিশোধের সনদসম্পর্কিত তথ্য এবং বিক্রির জন্য কোন তারিখে, কোন গুদামে যেতে হবে—সেসব তথ্য এসএমএসের মাধ্যমে কৃষক জানতে পারবেন। আবেদনকারী বেশি হলে লটারির মাধ্যমে কৃষক নির্বাচন করা হবে। তবে কৃষকের স্মার্টফোন না থাকলে ইউনিয়ন ডিজিটাল সেন্টারে (ইউডিসি) গিয়েও তিনি এ সেবা নিতে পারবেন।

সূত্র জানায়, এবার অ্যাপের মাধ্যমে যশোর সদরে ২ হাজার ৮২৬ টন ধান সংগ্রহ করা হবে। যশোর জেলায় কেনা হবে প্রায় ১৫ হাজার ২৩০ টন ধান। চলতি বছর যশোরে আমন ধান উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে প্রায় ৫ লাখ ৮৩ হাজার ৯০৫ টন।

সদরের দেয়াড়া ইউনিয়নের কৃষক হেলালউদ্দিন বলেন, প্রায় আড়াই বিঘা জমিতে এবার আমন চাষ করেছি। খাওয়ার জন্য কিছু রেখে বাকিটা বিক্রি করব। সরকারিভাবে এবার মোবাইল ফোনের মাধ্যমে ধান কেনা হবে, বিষয়টি কেউ আমাদের জানায়নি।

আরবপুর ইউনিয়নের পতেঙ্গালি এলাকার কৃষক আশরাফ হোসেন বলেন, সাত বিঘা জমিতে আমন চাষ করেছি। অ্যাপের মাধ্যমে ধান বিক্রি করা যাবে, এমন কোনো তথ্য আমার জানা নেই।

চাঁচড়া ইউনিয়নের তেঁতুলিয়া এলাকার কৃষক

শাহাবুদ্দিন বাটুল বলেন, মোবাইল অ্যাপের মাধ্যমে ধান বিক্রির বিষয়টি আমার জানা নেই। ব্লক সুপারভাইজাররাও এ বিষয়ে আমাদের কোনো কিছুই জানাননি।

এ ব্যাপারে যশোর সদর উপজেলা উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা মো. গোলাম মোস্তফা বলেন, সপ্তাহ খানেক আগে বিষয়টি আমরা জেনেছি। কিন্তু প্রচারণার অভাবে কৃষকদের সেভাবে অবহিত করা যায়নি। কেননা এ-সংক্রান্ত লিফলেট কিংবা মাইকিংয়ের কোনো ব্যবস্থা নেয়া হয়নি। ইউনিয়ন পরিষদে কৃষকদের তালিকা দেয়া রয়েছে। যারা এ বিষয়ে খোঁজখবর নিয়েছেন এবং ধান বিক্রি করতে চান, তাদের বিষয়টি জানিয়েছি।

আরবপুর ইউডিসির উদ্যোক্তা আরিফুজ্জামান বলেন, সম্প্রতি সরকারের এটুআই (অ্যাকসেস টু ইনফরমেশন) থেকে এ বিষয়ে একটি চিঠি পেয়েছি। সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাও একই কথা জানিয়েছেন। ২৪ নভেম্বর যশোর সদর ও ঝিনাইদহ সদর উপজেলার ১৩৫ জন ইউডিসি উদ্যোক্তা ও উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তার সমন্বয়ে একটি টিম গঠন করা হয়েছে।

এ বিষয়ে জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক লিয়াকত আলী বলেন, এবার কৃষকদের কাছ থেকে আমন ধান সংগ্রহ করা হবে ‘কৃষকদের অ্যাপ’-এর মাধ্যমে। কৃষকরা আগামী ৭ ডিসেম্বর পর্যন্ত নিবন্ধন করতে পারবেন। আর তারা ১৫ ডিসেম্বর পর্যন্ত বিক্রির আবেদন করতে পারবেন। এরপর লটারির মাধ্যমে কার কাছ থেকে কতটুকু ধান সংগ্রহ করা হবে, তা তাদের মোবাইল ফোনে এসএমএসের মাধ্যমে জানিয়ে দেয়া হবে। তিনি বলেন, আগামী ৮ ডিসেম্বর থেকে আমরা প্রচারণায় নামব। ১৫ ডিসেম্বর আবেদন শেষ হলে ১৭ বা ১৮ তারিখ থেকে আমরা যশোর সদরে ধান কেনা শুরু করব।

Post Top Ad

Responsive Ads Here