মনিরামপুরসহ যশোরের বিভিন্ন স্থানে লবন কেনার হিড়িক, দোকানের মজুদ শেষ, প্রশাসনের ঝটিকা অভিযান - যশোর নিউজ - Jessore News

Breaking

Post Top Ad


Post Top Ad

Responsive Ads Here

Wednesday, November 20, 2019

মনিরামপুরসহ যশোরের বিভিন্ন স্থানে লবন কেনার হিড়িক, দোকানের মজুদ শেষ, প্রশাসনের ঝটিকা অভিযান

মনিরামপুর সংবাদদাতা ॥
পেঁয়াজের মত লবনের মূল্য বৃদ্ধির গুজবে মঙ্গলবার মনিরামপুরে ব্যাপকহারে লবন কেনা হিড়িক পড়ে। অভিযোগ রয়েছে এ সুযোগে এক শ্রেণীর অসাধু ব্যবসায়ী লবনের মূল্য অস্বাভাবিক হারে বাড়িয়ে বিক্রি করেছেন। আর এ অভিযোগ পেয়েই সন্ধ্যার পর উপজেলা প্রশাসন দোকানে দোকানে ঝটিকা অভিযান শুরু করে। তবে রাত আটটার পর থেকে অধিকাংশ দোকানীর দাবি সন্ধ্যার আগেই তাদের মজুদ শেষ হয়ে যায়। আর বেসি দামে লবন বিক্রির অভিযোগে পুলিশ দুই জন মুদি ব্যবসায়ীকে আটক করেন।

অনুসন্ধ্যানে জানাযায়, মঙ্গলবার বিকেলের দিকে মনিরামপুর পৌরশহর সহ উপজেলাব্যাপী গুজব ছড়িয়ে পড়ে পেয়াজের মত লবনের মূল্য অস্বাভাবিক হারে বৃদ্ধি পাচ্ছে। আর এ গুজবে পড়ে বিভিন্ন শ্রেণীপেশার মানুষের মাঝে লবন কেনার হিড়িক পড়ে। বিকেল সাড়ে চারটার দিকে পৌরশহরের দোলখোলা মোড়ে দেখাযায় ঢাকা ইংলিশ মিডিয়াম স্কুলের প্রধান শিক্ষক শহিদুল ইসলামের হাতে পলিথিনের ব্যাগে পাঁচ কেজি লবন। প্রশ্ন করতেই তিনি জানান, শুনেছি পেয়াজের মত লবনের মূল্য বৃদ্ধি পাচ্ছে। তাই আগে ভাগেই তিনি পাঁচ কেজি লবন কিনেছেন। একই কথা জানান পৌরশহরের হারুন, মিজান, দেলোয়ার, হাশেম আলী, তাইজেলসহ অনেকেই। রতন পাল, তুলসি বসুসহ পাইকারী দোকানে দেখাযায় বিভিন্ন এলাকা থেকে আসা খুচরা বিক্রেতাদের লবন কেনার ভীড়। একইভাবে খুচরা দোকানেও সাধারন ভোক্তাদের লবন কেনার ভীড় হয়। তবে ভোক্তাদের অভিযোগ এ সুযোগে কিছু অসাধু ব্যবসায়ী মুহর্তের মধ্যে লবনের মূল্য বাড়িয়ে দেন। পাইকারী ব্যবসায়ী রতন পাল এবং তুলসি বসু জানান, দুপুরের পর থেকেই বিভিন্ন এলাকা থেকে খুচরা বিক্রেতাদের লবন কেনার মাত্রা অস্বাভাবিকহারে বেড়ে যায়। তাদের দাবি প্যাকেটজাত লবন বিক্রি করেছেন প্রতি কেজি ৩৫ টাকা। আর খোলা লবন বিক্রী করেছেন ১৭ টাকা প্রতি কেজি। অন্যদিকে সাধারন ভোক্তাদের মধ্যে কেউ কেউ লবন কিনেছেন প্যাকেটজাত প্রতিকেজি ৫০ থেকে ৮০ টাকা এবং খোলা লবন ৩০ থেকে ৪০ টাকা। পৌরশহরের দূর্গাপুর এলাকার বাসিন্দা আবু যায়েদ অভিযোগ করেন তরকারি বাজারের পাশে মুদি ব্যবসায়ী আতিয়ারের দোকান থেকে তিনি প্যাকেটজাত ৫০ কেজি লবন কিনেছেন ৫০ টাকা কেজি দরে। তবে তিনি রাত আটটার পর ওই দোকানীকে লবন ফেরত দেন। হোগলাডাঙ্গার কবির হোসেন জানান, তিনি এক কেজি প্যাকেটজাত লবন কিনেছেন ৮০ টাকায় এবং খোলা লবন কিনেছেন ৪০ টাকায়। এ দিকে হঠাৎ করে লবনের অস্বাভাবিক মূল্য বৃদ্ধির খবর প্রচার হলে পৌরশহরের প্রতিটি দোকানে সাধারন ভোক্তাদের লবন কেনার হিড়িক পড়ে। খবর পেয়ে রাত সাড়ে সাতটার দিকে উপজেলা নির্বাহী অফিসার আহসান উল্লাহ শরিফী, উপজেলা উপজেলা চেয়ারম্যান নাজমা খানম, ভাইস চেয়ারম্যান উত্তম চক্রবর্তি বাচ্চু, থানার ওসি রফিকুল ইসলাম সহ উপজেলা প্রশাসনের অন্যান্য কর্মকর্তারা পৌরশহরের বিভিন্ন মুদি দোকানে ঝটিকা অভিযানে নামেন। এ সময় কুলটিয়া রোডের মুদি ব্যবসায়ী বিল্লাল হোসেনের দোকানে গেলে তিনি উপজেলা প্রশাসনকে জানান, সন্ধ্যার আগেই তার দোকানের সব লবন বিক্রি হয়ে গেছে। তবে রতন পাল এবং তুলসি বসু জানান, অস্বাভাবিক হারে লবন বিক্রি হলেও তারা নির্ধারিত মূল্যে বিক্রি করেছেন। তুলসি বসু জানান, লবনের কোন সংকট নেই । অন্যদিকে উপজেলার নেহালপুরে বাজারে বেশি মূল্যে লবন বিক্রির অভিযোগে পুলিশ মুদি ব্যবসায়ী আবদুল ওহাবকে এবং বাজিতপুর বাজারের মুদি ব্যবসায়ী বিশু মন্ডলকে আটক করে। নেহালপুর ফাড়ির ইনচার্জ এসআই সৈয়দ বখতিয়অর আলী জানান, মুচলেকা নিয়ে ওই দুই ব্যবসায়ীকে ছেড়ে দেয়া হয়। উপজেলা নির্বাহী অফিসার জানান, যদি কোন ব্যবসায়ী লবনের মূল্য বৃদ্ধি করে তাহলে সেই ব্যবসায়ীকে আইনের আওতায় আনা হবে। তবে গতকাল এ রিপোর্ট লেখার সময় উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে লবনের মূল্য বৃদ্ধির গুজবে কান না দিতে জনসাধারনকে সতর্ক হওয়ার আহবান জনিয়ে মাইকিং করা হয়।

Post Top Ad

Responsive Ads Here